রুশ জ্বালানি তেলে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ২৩০টি পুরনো ট্যাংকার ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশ, যা এখন ‘শ্যাডো ফ্লিট’ নামে পরিচিতি। এসব জাহাজ কিনতে দেশগুলো মালিকদের দিয়েছে ৪৮০ কোটি পাউন্ড বা ৬০০ কোটি ডলার। সম্প্রতি এক অনুসন্ধানে এ তথ্য জানা গেছে।
দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে এ জাহাজগুলো কেনা হয়েছে। ট্যাংকারগুলো জ্বালানি আমদানিতে ব্যবহার করছে ভারত, হংকং, ভিয়েতনাম বা সেশেলসের মতো দেশ। এ দেশগুলো মস্কোর বিরুদ্ধে আর্থিক নিষেধাজ্ঞায় অংশ নিচ্ছে না।
এ বহরে সবচেয়ে বেশি ট্যাংকার বিক্রি করেছেন গ্রিক মালিকরা, মোট ১২৭টি। ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো ২২টি এবং জার্মান ও নরওয়েজিয়ান মালিকরা যথাক্রমে ১১টি ও আটটি জাহাজ বিক্রি করেছেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এভাবে বিক্রি না হলে জাহাজ ভাঙার কারখানায় চলে যেত, যেখানে মালিকরা অনেক কম মূল্য পেতেন।
ডাচ সংস্থা ফলো দ্য মানির (এফটিএম) নেতৃত্বে পরিচালিত এ তদন্তে যুক্ত ছিল নয়টি দেশের সংবাদমাধ্যম। এতে দেখা যাচ্ছে, রুশ জ্বালানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া ৩৫টি দেশের মধ্যে ২১টির জাহাজ মালিকরা ‘শ্যাডো ফ্লিটে’ ট্যাংকার বিক্রি করেছেন।
পশ্চিমা সরকারগুলোর মতে, শ্যাডো ফ্লিট জ্বালানি তেল পরিবহনের পাশাপাশি মস্কোর জন্য গুপ্তচরবৃত্তি, সমুদ্রতলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও নৌযান ধ্বংস করতে ব্যবহার হচ্ছে।
তদন্তকারী দলটি কিয়েভ স্কুল অব ইকোনমিকসের (কেএসই) সঙ্গে মিলে ৬০০ শ্যাডো ফ্লিট বিশ্লেষণ করেছে। গবেষকরা ধারণা করছেন, এ বহরের জাহাজগুলো রুশ জ্বালানি তেল রফতানির প্রায় ৭০ শতাংশ পরিবহন করছে।
প্রতিবেদনে দুটি ১৫ বছরের পুরনো গ্রিক মালিকানাধীন ট্যাংকারের উল্লেখ রয়েছে। এগুলো হ্যানয়ভিত্তিক একটি কোম্পানির কাছে বিক্রি হয়েছিল এবং পরে মাল্টা থেকে পানামায় পতাকা পরিবর্তন করা হয়েছিল। সে ট্যাংকারগুলো পরে রাশিয়ার বাল্টিক বন্দর, ইউস্ট-লুগা থেকে ১২ কোটি লিটার জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে।
২০২২ সালের শেষে জি৭ ও ইইউ রুশ জ্বালানি তেলে মূল্যসীমা আরোপ করে, যা তাদের এলাকায় নিবন্ধিত কোম্পানিকে নির্দিষ্ট দামের বেশি বিক্রি করতে বাধা দেয়। ফলে নিষেধাজ্ঞা না থাকা দেশে নিবন্ধিত জাহাজগুলো আরো মূল্যবান হয়ে উঠেছে।
বেলজিয়ান মেরিন ট্রান্সপোর্ট গ্রুপ সিএমবি টেক ২০২২-২৩ সালে শ্যাডো ফ্লিটে পাঁচটি ট্যাংকার বিক্রি করেছে, যার মূল্য ১৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
২০২৩ সালের শেষে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নতুন নিয়ম চালু করে। এতে তৃতীয় দেশে বিক্রীত জাহাজের জন্য যাচাই প্রক্রিয়া রয়েছে, যাতে তারা নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করতে ব্যবহার না হয়। তবে এ নিয়ম চালুর পরও ৩২টি ইউরোপীয় মালিকানাধীন ট্যাংকার শ্যাডো ফ্লিটে বিক্রি হয়েছে।